
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, পারমাণবিক কার্যক্রমের ব্যাপারে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে তেহরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে; অন্যথায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর চাপ অব্যাহত থাকবে।
ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত এএফপি সংবাদে জানা যায়, ট্রাম্প বুধবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে ইরানকে ‘শিগগিরই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে’ বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাবির প্রতি নতি স্বীকার করতে আহ্বান জানান। পোস্টের সঙ্গে একটি ব্যঙ্গচিত্র জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তাকে অস্ত্র হাতে মরুভূমিতে বিস্ফোরণের সামনে দেখা যায়, এবং সেখানে লেখা ছিল: ‘আর কোনো মিস্টার নাইস গাই নয়’।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান দুই মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে। এই জলপথ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এ ধরনের অবরোধের ফলে ইরানের নিজস্ব অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ইরানের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে ছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখে দেশটিকে পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করার কৌশল গ্রহণ করেছে।
হোয়াইট হাউসের মঙ্গলবারের এক নৈশভোজে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসসহ অতিথিদের সামনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে ‘সামরিকভাবে পরাজিত করা হয়েছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র কখনোই দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।
অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, ‘আমরা মনে করি এই যুদ্ধ শেষ হয়নি’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের কোনো বিশ্বাস নেই। তিনি আরো দাবি করেন, ভবিষ্যতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের কাছে নতুন কৌশল ও সক্ষমতা রয়েছে যা এখনও ব্যবহার করা হয়নি।
এদিকে, কাতার সতর্ক করেছে যে, যদি চূড়ান্ত সমাধান না হয়, তাহলে অঞ্চলটি দীর্ঘমেয়াদি ‘জমাট সংঘাতে’ পরিণত হতে পারে।
অর্থনৈতিক চাপের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয়ভাবেও চাপে রয়েছে। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন এ পরিস্থিতিকে আরো গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরছে।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ইউরোপীয় কিছু নেতা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরিষ্কার কোনো কৌশল নেই’ এবং বর্তমান যুদ্ধকে তিনি ‘অন্তত অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
লেবানন সীমান্তেও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, ইসরাইলি হামলায় লেবাননের সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।